গলায় বিদ্যুৎস্পর্শের মতো যন্ত্রণা? এই বিরল স্নায়ুরোগটির কথা হয়তো আপনি জানেনই না - গ্লসোফ্যারেঞ্জিয়াল নিউরালজিয়া চিকিৎসা কলকাতা
- Dr Debjyoti Dutta

- Apr 1
- 8 min read
লিখেছেন ডাঃ দেবজ্যোতি দত্ত | সমব্যথী পেইন ক্লিনিক, কলকাতা

জল গিলতে গেলে গলায় ছুরি বেঁধার মতো ব্যথা। কথা বলতে গেলে কানের ভেতর থেকে একটা বৈদ্যুতিক ঝটকা। খাবার খেতে বসে হঠাৎ এমন যন্ত্রণা যে চোখে জল এসে যায় — তবু আশেপাশের কেউ বিশ্বাস করে না, ভাবে হয়তো গলায় ইনফেকশন, হয়তো দাঁতের সমস্যা, কিংবা "একটু বেশি দুশ্চিন্তা করছ।"
কিন্তু এটা দুশ্চিন্তা নয়। এটা একটি সত্যিকারের স্নায়ুরোগ, যার নাম গ্লসোফ্যারেঞ্জিয়াল নিউরালজিয়া। কঠিন নাম, কিন্তু সমস্যাটা অত্যন্ত বাস্তব। এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কথা হল — এই রোগ সারানো সম্ভব।
গ্লসোফ্যারেঞ্জিয়াল নিউরালজিয়া আসলে কী? জানুন সহজ ভাষায়
আমাদের মাথার ভেতর থেকে বেরিয়ে আসা বেশ কয়েকটি স্নায়ু সরাসরি মুখ, গলা, কান এবং জিভের সাথে যুক্ত। এদের মধ্যে নবম স্নায়ুটির নাম গ্লসোফ্যারেঞ্জিয়াল নার্ভ। এই স্নায়ুটি গলার পেছনের অংশ, টনসিলের জায়গা, জিভের গোড়া এবং কানের কাছের অংশ থেকে অনুভূতি বহন করে মস্তিষ্কে পাঠায়।
কোনো কারণে — বেশিরভাগ ক্ষেত্রে পাশের একটি রক্তনালী এই স্নায়ুর গায়ে চাপ দিলে — স্নায়ুটি অস্বাভাবিকভাবে সক্রিয় হয়ে পড়ে। বিনা কারণে মস্তিষ্কে তীব্র যন্ত্রণার সংকেত পাঠাতে থাকে। ঠিক যেন একটি বৈদ্যুতিক তার শর্ট সার্কিট করছে।
এই রোগটির সঙ্গে অনেকেই ট্রাইজেমিনাল নিউরালজিয়ার তুলনা করেন — সেটি মুখের স্নায়ুতে একই ধরনের সমস্যা। গ্লসোফ্যারেঞ্জিয়াল নিউরালজিয়া তার চেয়ে বিরল, কিন্তু যন্ত্রণার তীব্রতায় কোনো অংশে কম নয়।
কাদের এই রোগ হয়? কলকাতার ক্লিনিকে যা দেখি প্রতিদিন
সমব্যথী পেইন ক্লিনিকে কলকাতা এবং পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলা থেকে রোগীরা আসেন — অনেকেই মাসের পর মাস ভুল চিকিৎসা করিয়ে, ক্লান্ত এবং হতাশ হয়ে। আমাদের অভিজ্ঞতায় দেখেছি, এই রোগটি মূলত চল্লিশ বছরের বেশি বয়সের মানুষদের বেশি হয়, যদিও তরুণদের মধ্যেও এটি দেখা যায়।
শহর এবং গ্রাম — দুই জায়গার রোগীই আসেন। কিন্তু গ্রামের দিক থেকে আসা রোগীরা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে অনেক দেরিতে আসেন, কারণ এই রোগ সম্পর্কে সচেতনতা এখনও অনেক কম।
কীভাবে বুঝবেন এই রোগ হয়েছে? উপসর্গ চিনুন
এই রোগের ব্যথার একটি নির্দিষ্ট চরিত্র আছে, যা অন্য যেকোনো গলার সমস্যা থেকে আলাদা।
যে লক্ষণগুলো দেখলে সতর্ক হবেন:
গলার ভেতরে, টনসিলের কাছে, জিভের গোড়ায় বা কানের গভীরে হঠাৎ তীব্র ব্যথা — যা কয়েক সেকেন্ড থেকে দু'-এক মিনিট স্থায়ী হয়
জল গেলার সময়, খাবার চিবোনোর সময়, কথা বলতে গেলে, কাশি দিলে বা হাই তুললে এই ব্যথা শুরু হয়
দুটো আক্রমণের মাঝে কোনো ব্যথা থাকে না — রোগী একদম স্বাভাবিক বোধ করেন
আমাদের কাছে আসা অনেক রোগী জানিয়েছেন, একসময় তাঁরা খাওয়া প্রায় ছেড়েই দিয়েছিলেন — কারণ প্রতিটি গ্রাসে যন্ত্রণা। কেউ কথা বলা কমিয়ে দিয়েছিলেন। এটা স্বাভাবিক জীবন নয়, এবং এভাবে থাকার কোনো দরকার নেই।
রোগ নির্ণয় কীভাবে হয়?
এই রোগ ধরা পড়ে মূলত রোগীর বিস্তারিত ইতিহাস শুনে এবং পরীক্ষার মাধ্যমে। কোনো একটি রক্ত পরীক্ষায় এটি ধরা পড়ে না।
সমব্যথী পেইন ক্লিনিকে আমরা সাধারণত যেভাবে এগোই:
প্রথমেই রোগীর ব্যথার ধরন, কখন শুরু হয়, কোথায় হয়, কী করলে বাড়ে — সব খুঁটিনাটি শুনি। এই তথ্যগুলোই রোগ নির্ণয়ের সবচেয়ে বড় সূত্র।
মস্তিষ্কের MRI করানো হয়, বিশেষত পোস্টেরিয়র ফসা অঞ্চলের — স্নায়ুতে রক্তনালীর চাপ আছে কিনা বা অন্য কোনো কারণ আছে কিনা দেখতে।
কখনও কখনও গলার পেছনে অল্প পরিমাণ লোকাল অ্যানেস্থেটিক লাগিয়ে দেখা হয় — যদি এতে ব্যথা সাময়িক চলে যায়, তাহলে রোগ নির্ণয় প্রায় নিশ্চিত হয়ে যায়।
এর পাশাপাশি গলার ইনফেকশন, টিউমার, ইগলস সিন্ড্রোম এবং দাঁতের সমস্যা — এগুলো আগে বাদ দেওয়া জরুরি।
গ্লসোফ্যারেঞ্জিয়াল নিউরালজিয়া চিকিৎসা কলকাতা
চিকিৎসা কী কী? ওষুধ থেকে ইন্টারভেনশনাল পদ্ধতি — সম্পূর্ণ গাইড
এখানেই আশার কথা। বেশিরভাগ রোগী সঠিক চিকিৎসায় উল্লেখযোগ্যভাবে ভালো হয়ে যান। চিকিৎসা ধাপে ধাপে এগোয় — সবচেয়ে সহজ পদ্ধতি দিয়ে শুরু করে প্রয়োজনে আরও কার্যকর পদ্ধতিতে যাওয়া হয়।
ধাপ ১: ওষুধ দিয়ে চিকিৎসা
প্রথম পর্যায়ে সাধারণত ওষুধ দিয়েই শুরু করা হয়।
গাবাপেন্টিন বা প্রেগাবালিন — — স্নায়ুর অস্বাভাবিক সংকেত নিয়ন্ত্রণে এই ওষুধ সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয়। অনেক রোগী এতে ভালো ফল পান।
কার্বামাজেপিন
অক্সকার্বাজেপিন — কার্বামাজেপিনের একটি উন্নত বিকল্প, পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া তুলনামূলক কম।
ব্যাক্লোফেন — কিছু রোগীর ক্ষেত্রে বিশেষভাবে কার্যকর।
তবে একটা কথা সত্যি — সময়ের সাথে সাথে অনেক রোগীর ওষুধে আর কাজ হয় না, বা পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সহ্য করা কঠিন হয়ে পড়ে। ঘুম ঘুম ভাব, মাথা ঘোরা, লিভারের সমস্যা — এই কারণে মাঝেমাঝে ওষুধ বাড়ানো সম্ভব হয় না। তখন ইন্টারভেনশনাল পদ্ধতি অনেক বেশি কার্যকর হয়ে ওঠে।
ধাপ ২: ইন্টারভেনশনাল পেইন ম্যানেজমেন্ট
সমব্যথীপেইন ক্লিনিকে এই পদ্ধতিগুলোকে আমরা বিশেষ গুরুত্ব দিই — কারণ সঠিক রোগীর জন্য এগুলো ওষুধের চেয়ে অনেক বেশি এবং দীর্ঘস্থায়ী আরাম দিতে পারে, পুরো শরীরে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ছাড়াই।
গ্লসোফ্যারেঞ্জিয়াল নার্ভ ব্লক
এটি সবচেয়ে প্রথম ইন্টারভেনশনাল পদক্ষেপ। ইমেজিং গাইডেন্সের সাহায্যে গ্লসোফ্যারেঞ্জিয়াল স্নায়ুর কাছে একটি সূক্ষ্ম সুই দিয়ে লোকাল অ্যানেস্থেটিক — প্রয়োজনে স্টেরয়েড সহ — ইনজেক্ট করা হয়।
রোগীরা কেন এটি পছন্দ করেন:
ব্যথা কমে যায়
পুরো প্রক্রিয়াটি কুড়ি থেকে ত্রিশ মিনিটের মধ্যে শেষ হয়
একই দিনে বাড়ি ফেরা যায়
ওষুধের কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই
বয়স্ক রোগী বা যাঁরা অস্ত্রোপচারের ঝুঁকি নিতে পারবেন না, তাঁদের জন্য এটি দীর্ঘমেয়াদি ব্যবস্থাপনার একটি চমৎকার পথ।
পালসড রেডিওফ্রিকোয়েন্সি (PRF) চিকিৎসা
এটি আধুনিক ইন্টারভেনশনাল পেইন ম্যানেজমেন্টের একটি অত্যন্ত কার্যকর এবং নিরাপদ পদ্ধতি। এক্স-রে বা সিটি গাইডেন্সে একটি সরু সুই গ্লসোফ্যারেঞ্জিয়াল স্নায়ুর কাছে বসানো হয়। তারপর নিয়ন্ত্রিত মাত্রায় রেডিওফ্রিকোয়েন্সি শক্তির স্পন্দন পাঠানো হয়।
এই স্পন্দন স্নায়ুর ব্যথার সংকেত পাঠানোর পদ্ধতিটিকে পরিবর্তন করে দেয় — অনেকটা একটি বিগড়ে যাওয়া তারকে "রিসেট" করার মতো — কিন্তু স্নায়ুটিকে কোনোভাবে নষ্ট করে না।
কেন অনেক রোগী এই পদ্ধতি বেছে নেন:
স্নায়ু অক্ষত থাকে — কোনো স্থায়ী ক্ষতি হয় না
পদ্ধতিটি এক ঘণ্টার মধ্যে শেষ হয়
হালকা সিডেশন দেওয়া হয়, ব্যথা প্রায় লাগে না
প্রক্রিয়াটির পর দিন কয়েকের মধ্যে ব্যথা কমতে শুরু করে
কার্যকারিতা মাসের পর মাস — এমনকি বছরখানেক পর্যন্ত — স্থায়ী হতে পারে
প্রয়োজনে নিরাপদে পুনরায় করা যায়
যাঁরা ওষুধে পর্যাপ্ত ফল পাচ্ছেন না বা ওষুধের বোঝা কমাতে চাইছেন, তাঁদের জন্য PRF একটি আদর্শ পদ্ধতি।
রেডিওফ্রিকোয়েন্সি অ্যাবলেশন (RFA)
যাঁদের ব্যথা অত্যন্ত তীব্র এবং দীর্ঘস্থায়ী, তাঁদের জন্য এই পদ্ধতি আরও শক্তিশালী সমাধান দেয়। এই পদ্ধতিতেও ইমেজিং গাইডেন্সে সুই বসানো হয়, কিন্তু এক্ষেত্রে তাপশক্তি প্রয়োগ করে স্নায়ুর ব্যথার পথটি আরও নিশ্চিতভাবে বন্ধ করা হয়।
রোগীরা কী পান:
দীর্ঘস্থায়ী ব্যথামুক্তি — অনেক ক্ষেত্রে এক থেকে কয়েক বছর
একই দিনে বা পরদিন সকালে বাড়ি ফেরা সম্ভব
প্রক্রিয়ার পর গলায় সামান্য অসাড়ভাব হতে পারে, যা সাধারণত কিছুদিনের মধ্যে ঠিক হয়ে যায়
নার্ভ ব্লক বা PRF-তে যথেষ্ট ফল পাননি — এমন রোগীদের জন্য RFA অত্যন্ত কার্যকর পদক্ষেপ।
নিউরোলাইটিক ব্লক
নির্বাচিত কিছু রোগীর ক্ষেত্রে — বিশেষত বয়স্ক যাঁদের ক্ষেত্রে অন্য পদ্ধতিতে সুফল আসেনি — স্নায়ুর কাছে একটি বিশেষ রাসায়নিক প্রয়োগ করে আরও দীর্ঘমেয়াদি উপশম দেওয়া হয়। এই সিদ্ধান্ত সবসময় রোগীর সাথে বিস্তারিত আলোচনার পরেই নেওয়া হয়।
প্রতিদিনের জীবনে কীভাবে সামলাবেন?
চিকিৎসা শুরু হওয়ার আগে বা চলাকালীন কিছু ছোট ছোট বিষয় মাথায় রাখলে দৈনন্দিন জীবন একটু সহজ হয়:
নরম, ঘরের তাপমাত্রায় থাকা খাবার খান — গিলতে সুবিধা হয়
যদি গেলার ব্যথা বেশি হয়, স্ট্র দিয়ে পান করুন
কী কারণে ব্যথা বাড়ছে সেটা খেয়াল রাখুন এবং নোট করুন — ডাক্তারকে জানালে চিকিৎসায় সুবিধা হয়
হঠাৎ করে ব্যথার ওষুধ বন্ধ করবেন না — এতে উপসর্গ হঠাৎ খারাপ হয়ে যেতে পারে
পরিবারকে এই রোগ সম্পর্কে জানান — তাদের সাহায্য এবং সহানুভূতি চিকিৎসার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ
কেন কলকাতায় সমব্যথী পেইন ক্লিনিকে আসবেন?
গ্লসোফ্যারেঞ্জিয়াল নিউরালজিয়া একটি বিশেষজ্ঞের রোগ। সাধারণ চিকিৎসকের কাছে এই রোগ প্রতিদিন আসে না — তাই অভিজ্ঞ ইন্টারভেনশনাল পেইন বিশেষজ্ঞের কাছে যাওয়া জরুরি।
আমাদের কাছে প্রতিটি রোগীর জন্য আলাদা পরিকল্পনা তৈরি হয়। সবচেয়ে সহজ পদ্ধতি দিয়ে শুরু, এবং দরকারে পরবর্তী ধাপে যাওয়া। সব ইন্টারভেনশনাল পদ্ধতি ইমেজিং গাইডেন্সে করা হয় — নির্ভুলতার জন্য, নিরাপত্তার জন্য।
পশ্চিমবঙ্গের যেকোনো প্রান্ত থেকে, কলকাতার যেকোনো এলাকা থেকে — যদি এই রকম ব্যথায় কেউ কষ্ট পাচ্ছেন, তাহলে আর অপেক্ষা করবেন না। এই রোগের চিকিৎসা আছে। সুস্থ জীবন সম্ভব।
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)
১. গ্লসোফ্যারেঞ্জিয়াল নিউরালজিয়া কি খুব বিপজ্জনক রোগ?
এটি অত্যন্ত কষ্টের রোগ, কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রে প্রাণঘাতী নয়। তবে সঠিক চিকিৎসা না হলে ব্যথা ক্রমশ বাড়তে পারে এবং খাওয়া, কথা বলা — স্বাভাবিক জীবনযাপন কঠিন হয়ে পড়ে। সঠিক সময়ে চিকিৎসা শুরু করলে জীবনমান অনেকটাই স্বাভাবিক হয়ে আসে।
২. গ্লসোফ্যারেঞ্জিয়াল নিউরালজিয়া কি এমনিতে সেরে যায়?
অত্যন্ত বিরল ক্ষেত্রে নিজে থেকে ভালো হওয়ার নজির আছে। কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রে চিকিৎসা ছাড়া রোগ সারে না — বরং সময়ের সাথে ব্যথার আক্রমণ বাড়ে। তাই উপসর্গ দেখা দিলে দেরি না করে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।
৩. গ্লসোফ্যারেঞ্জিয়াল নিউরালজিয়ার ব্যথা কি গলার ইনফেকশন বা টনসিলাইটিসের ব্যথার মতো?
না — মূলত দুটো পার্থক্য আছে। প্রথমত, এই ব্যথা বিদ্যুৎস্পর্শের মতো হঠাৎ আসে এবং চলে যায়, থেমে থেমে হয়। দ্বিতীয়ত, কথা বলা, কাশি বা গেলার মতো নির্দিষ্ট কাজে এটি ট্রিগার হয়। গলার ইনফেকশনে জ্বর থাকে, ক্রমাগত ব্যথা হয়। গ্লসোফ্যারেঞ্জিয়াল নিউরালজিয়ায় আক্রমণের ফাঁকে রোগী সম্পূর্ণ ঠিক থাকেন।
৪. নার্ভ ব্লক ইনজেকশন কি ব্যথার? কতটা ঝুঁকিপূর্ণ?
প্রক্রিয়াটি করার আগে হালকা সিডেশন বা লোকাল অ্যানেস্থেশিয়া দেওয়া হয়, তাই অস্বস্তি খুব কম। ইমেজিং গাইডেন্সে করা হওয়ায় এটি অত্যন্ত নিরাপদ। গুরুতর জটিলতার সম্ভাবনা অত্যন্ত কম। প্রক্রিয়াটি দ্রুত এবং বেশিরভাগ রোগীই একই দিনে বাড়ি ফিরে যান।
৫. পালসড রেডিওফ্রিকোয়েন্সি চিকিৎসা কতদিন কাজ করে?
রোগীভেদে এটি কয়েক মাস থেকে এক বছর বা তার বেশি সময় ব্যথা নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারে। প্রয়োজনে নিরাপদে পুনরায় করাও সম্ভব। আমাদের ক্লিনিকে যাঁরা এই পদ্ধতিতে চিকিৎসা নিয়েছেন, তাঁদের বড় অংশই উল্লেখযোগ্য উপশম পেয়েছেন।
৬. অস্ত্রোপচার ছাড়াই কি এই রোগ সারানো সম্ভব?
হ্যাঁ, অনেক রোগীর ক্ষেত্রেই অস্ত্রোপচার ছাড়া চমৎকার ফল পাওয়া যায়। ওষুধ এবং ইন্টারভেনশনাল পদ্ধতির সমন্বয়ে — নার্ভ ব্লক, PRF, বা RFA — বেশিরভাগ রোগী স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেন। অস্ত্রোপচার বিবেচনা করা হয় শুধুমাত্র যখন অন্য পদ্ধতিতে যথেষ্ট ফল পাওয়া যায় না।
৭. কলকাতায় গ্লসোফ্যারেঞ্জিয়াল নিউরালজিয়ার চিকিৎসা কোথায় পাব?
সমব্যথী পেইন ক্লিনিক, কলকাতায় গ্লসোফ্যারেঞ্জিয়াল নিউরালজিয়ার সম্পূর্ণ মূল্যায়ন এবং চিকিৎসা পাওয়া যায় — ওষুধ থেকে শুরু করে উন্নত ইন্টারভেনশনাল পদ্ধতি পর্যন্ত। পশ্চিমবঙ্গের যেকোনো জায়গা থেকে পরামর্শের জন্য যোগাযোগ করতে পারেন।
৮. গ্লসোফ্যারেঞ্জিয়াল নিউরালজিয়ার উপসর্গ থাকলে কত দ্রুত ডাক্তার দেখানো উচিত?
যত তাড়াতাড়ি সম্ভব। এই ধরনের ব্যথাকে সাধারণ গলার সমস্যা ভেবে অপেক্ষা করা উচিত নয়। প্রথম থেকেই সঠিক রোগ নির্ণয় এবং চিকিৎসা শুরু হলে দীর্ঘমেয়াদি ফলাফল অনেক ভালো হয়।
লেখক পরিচিতি: ডাঃ দেবজ্যোতি দত্ত কলকাতার সমব্যথী পেইন ক্লিনিকের ইন্টারভেনশনাল পেইন বিশেষজ্ঞ। জটিল স্নায়ুব্যথার চিকিৎসায় তাঁর বিশেষ অভিজ্ঞতা রয়েছে এবং পশ্চিমবঙ্গ তথা ভারতের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা রোগীদের চিকিৎসায় তিনি নিয়মিত নিয়োজিত।
দ্রষ্টব্য: এই নিবন্ধটি শুধুমাত্র সচেতনতামূলক উদ্দেশ্যে লেখা হয়েছে। এটি কোনো চিকিৎসা পরামর্শের বিকল্প নয়। উপসর্গ দেখা দিলে অবশ্যই একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সাথে যোগাযোগ করুন।

About the Author
Dr. Debjyoti Dutta, MD, Fellowship in Pain Management (WBUHS), FIPP (USA)
Pain Physician | Founder, Samobathi Pain Clinic | Vice President, Indian Society for Study of Pain
Dr. Debjyoti Dutta is a distinguished Pain Physician with extensive experience in the diagnosis and treatment of acute pain, chronic pain, cancer pain, and complex pain disorders. He is the Founder and Director of Samobathi Pain Clinic, Dum Dum, Kolkata, a dedicated center for comprehensive pain management and minimally invasive pain interventions.
Dr. Dutta completed his MD in Anaesthesiology and subsequently obtained a Fellowship in Pain Management from the West Bengal University of Health Sciences (WBUHS). He further earned the prestigious Fellow of Interventional Pain Practice (FIPP, USA) certification, one of the most respected international qualifications in the field of Pain Medicine.
He currently serves as the Vice President of the Indian Society for Study of Pain (ISSP) and has previously served as the Registrar of the Indian Academy of Pain Medicine (IAPM), contributing significantly to academic excellence, physician training, and the advancement of evidence-based pain management practices in India.
Dr. Dutta specializes in the diagnosis and treatment of:
Neck Pain and Cervical Spondylosis
Back Pain and Sciatica
Slipped Disc and Radiculopathy
Knee Pain and Osteoarthritis
Neuropathic Pain
Trigeminal Neuralgia
Complex Regional Pain Syndrome (CRPS)
Cancer Pain
Post-Surgical Pain
Chronic Musculoskeletal Pain Disorders
His expertise includes advanced image-guided pain procedures such as:
Cervical and Lumbar Epidural Steroid Injections
Facet Joint Injections
Medial Branch Blocks
Radiofrequency Ablation (RFA)
Selective Nerve Root Blocks
Sacroiliac Joint Injections
Sympathetic Nerve Blocks
Cancer Pain Interventions
Ultrasound-Guided Pain Procedures
Fluoroscopy-Guided Pain Procedures
Dr. Dutta believes that successful pain management begins with an accurate diagnosis and a patient-centered approach. His treatment philosophy combines evidence-based medicine, advanced pain interventions, rehabilitation strategies, and lifestyle modification to help patients achieve meaningful pain relief, restore function, and improve their quality of life while avoiding unnecessary surgery whenever possible.
Recognized for his clinical expertise, academic contributions, and compassionate patient care, Dr. Dutta is highly regarded by patients from Kolkata, West Bengal, and across Eastern India seeking specialized treatment for chronic pain conditions.
All medical content published on this website is medically reviewed by Dr. Debjyoti Dutta, MD, Fellowship in Pain Management (WBUHS), FIPP (USA), Vice President – Indian Society for Study of Pain (ISSP), Former Registrar – Indian Academy of Pain Medicine (IAPM), Founder & Director, Samobathi Pain Clinic, Kolkata.





Comments