হাড় দুর্বলতার লক্ষণ: কীভাবে বুঝবেন আপনার হাড় দুর্বল হয়ে পড়ছে?
- Dr Debjyoti Dutta

- Jul 9, 2025
- 2 min read
আমাদের শরীরের ভিত গঠনে হাড়ের গুরুত্ব অপরিসীম। কিন্তু বয়স, হরমোনের পরিবর্তন, খাদ্যাভ্যাস বা অনিয়মিত জীবনযাপনের কারণে হাড় ভেতরে ভেতরে দুর্বল হয়ে পড়ে। প্রথম দিকে এই দুর্বলতা বোঝা কঠিন, কিন্তু কিছু লক্ষণ আপনাকে আগেভাগে সতর্ক করতে পারে।
এই লেখায় আমরা জানব হাড় দুর্বলতার লক্ষণ, কারণ, পরীক্ষার পদ্ধতি এবং কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

হাড় দুর্বলতার লক্ষণ চেনার উপায়
হাড় দুর্বল হয়ে গেলে শরীর কিছু সংকেত দেয়। নিচে তেমনই কিছু সাধারণ লক্ষণ তুলে ধরা হলো—
🔹 ১. অল্প আঘাতে হাড় ভেঙে যাওয়া
যেমন হালকা পড়ে গিয়ে কব্জি, কোমর বা মেরুদণ্ডে ফ্র্যাকচার হলে তা হতে পারে অস্টিওপোরোসিসের ইঙ্গিত।
🔹 ২. পিঠ বা কোমরে নিয়মিত ব্যথা
বিশেষ করে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকলে বা বসলে ব্যথা বাড়ে, যা মেরুদণ্ডের হাড় ক্ষয়ের ফল হতে পারে।
🔹 ৩. উচ্চতা কমে যাওয়া
বয়স বাড়ার সঙ্গে যদি ধীরে ধীরে উচ্চতা কমে যেতে থাকে, তা হাড় দুর্বলতার লক্ষণ হতে পারে।
🔹 ৪. কুঁজো হয়ে যাওয়া বা সামনে ঝুঁকে হাঁটা
মেরুদণ্ডের হাড় দুর্বল হয়ে গেলে এই ধরনের বিকৃতি দেখা দেয়।
🔹 ৫. নখ ও চুল দুর্বল হয়ে পড়া
হাড় দুর্বলতার একটি অপ্রত্যক্ষ লক্ষণ। চুল ও নখ ভঙ্গুর হয়ে পড়তে পারে।
🔹 ৬. সহজে ক্লান্ত হয়ে পড়া ও ভারসাম্য হারানো
হাড় দুর্বল হলে পেশি দুর্বল হয় এবং শরীর ভারসাম্য হারায়।
হাড় দুর্বল হওয়ার সাধারণ কারণসমূহ
ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি-এর ঘাটতি
বয়সের সঙ্গে হাড়ের ঘনত্ব কমে যাওয়া
নারীদের ক্ষেত্রে মেনোপজ-পরবর্তী হরমোনের পরিবর্তন
ধূমপান ও অতিরিক্ত অ্যালকোহল সেবন
ব্যায়ামের অভাব
দীর্ঘদিন ধরে স্টেরয়েড জাতীয় ওষুধ সেবন
পারিবারিক ইতিহাসে অস্টিওপোরোসিস থাকলে ঝুঁকি বৃদ্ধি
হাড় দুর্বলতা শনাক্তে প্রয়োজনীয় কিছু পরীক্ষা
✅ DEXA স্ক্যান (Dual-Energy X-ray Absorptiometry)
সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য পদ্ধতি। কোমর ও মেরুদণ্ডের হাড়ের ঘনত্ব নির্ধারণ করে।
T-score বিশ্লেষণ:
T-score ≥ -1.0: স্বাভাবিক
T-score -1.0 থেকে -2.5: হাড় দুর্বল (Osteopenia)
T-score ≤ -2.5: অস্টিওপোরোসিস
✅ রক্ত পরীক্ষা
রক্তে ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি-এর পরিমাণ নির্ধারণে সহায়ক।
✅ FRAX স্কোর
এই ক্যালকুলেটরের মাধ্যমে আপনার আগামী ১০ বছরে হাড় ভাঙার ঝুঁকি নির্ধারণ করা যায়।
✅ এক্স-রে (X-ray)
হাড়ে ফাটল বা গঠনগত পরিবর্তন শনাক্ত করা যায়, বিশেষ করে মেরুদণ্ডে।
কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন?
যদি উপরের কোনও লক্ষণ দেখা যায়—বিশেষ করে বয়স ৪৫ পেরোলেই—তাহলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।অস্টিওপোরোসিস প্রাথমিক পর্যায়ে ধরা পড়লে সঠিক চিকিৎসা ও লাইফস্টাইল পরিবর্তনের মাধ্যমে তা নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব।
হাড় সুস্থ রাখতে করণীয়
প্রতিদিন ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি সমৃদ্ধ খাবার খান (দুধ, ডিম, মাছ, ছানা)
সকাল বা বিকেলের রোদে কিছুক্ষণ সময় কাটান
নিয়মিত ব্যায়াম করুন (হাঁটা, ইয়োগা, হালকা ওজন বহন ব্যায়াম)
ধূমপান ও অ্যালকোহল থেকে দূরে থাকুন
৫০ বছর পেরোলে নিয়মিত হাড়ের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করান
শেষ কথা
📞 পরামর্শ বা অ্যাপয়েন্টমেন্টের জন্য যোগাযোগ করুন স্যামোবাথী পেইন ক্লিনিক।
🔸এই লেখাটি আপনার পরিচিতদের সঙ্গে শেয়ার করুন যাতে আরও মানুষ হাড় দুর্বলতার লক্ষণ সম্পর্কে সচেতন হতে পারেন।





Comments