মাথার পেছনে হঠাৎ বিদ্যুতের মতো ব্যথা? মাইগ্রেন ভেবে ভুল করছেন না তো - অক্সিপিটাল নিউরালজিয়া আসলে কী
- Dr Debjyoti Dutta

- 23 hours ago
- 2 min read

ঘাড়ের গোড়া থেকে হঠাৎ মাথার ওপর দিকে ছুটে যাওয়া তীব্র, শক-এর মতো ব্যথা—অনেকেই একে মাইগ্রেন বা সাধারণ মাথাব্যথা ভেবে মাসের পর মাস ভুল চিকিৎসা চালিয়ে যান। কিন্তু বাস্তবে এটি হতে পারে অক্সিপিটাল নিউরালজিয়া, একটি নির্দিষ্ট স্নায়ুজনিত সমস্যা, যার সঠিক চিকিৎসা করলে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই উল্লেখযোগ্য আরাম পাওয়া যায়। - ডা. দেবজ্যোতি দত্ত
অক্সিপিটাল নিউরালজিয়া আসলে কী
মাথার পেছনে যে স্নায়ুগুলি ঘাড় থেকে উঠে স্ক্যাল্প পর্যন্ত যায়, সেগুলিকে বলা হয় অক্সিপিটাল নার্ভ। এই স্নায়ুতে চাপ, প্রদাহ বা ক্ষতি হলে তৈরি হয় তীব্র, ছুরির মতো বা বিদ্যুতের ঝাঁকুনির মতো ব্যথা।
এটি জীবনঘাতী নয়, কিন্তু রোগীর দৈনন্দিন জীবনকে অত্যন্ত কষ্টকর করে তুলতে পারে—ঘুম, কাজ, এমনকি সাধারণ চলাফেরাও ব্যাহত হয়।
কোথা থেকে আসে এই ব্যথা
দুটি প্রধান স্নায়ু জড়িত থাকে
গ্রেটার অক্সিপিটাল নার্ভ – ঘাড়ের পেছন থেকে মাথার ওপর পর্যন্ত যায়লেসার অক্সিপিটাল নার্ভ – কান ও মাথার পাশের অংশে ছড়ায়
এই স্নায়ুগুলির যেকোনো একটিতে সমস্যা হলেই এই ব্যথা শুরু হতে পারে।
কীভাবে বুঝবেন এটি অক্সিপিটাল নিউরালজিয়া
এই রোগের কিছু বিশেষ লক্ষণ রয়েছে
হঠাৎ শুটিং বা বিদ্যুতের মতো ব্যথাস্ক্যাল্পে জ্বালা বা স্পর্শে ব্যথাচোখের পেছনে ব্যথামাথায় চাপ পড়লে অস্বস্তিসাধারণত একপাশে শুরু হয়ে সামনে ছড়ায়ঘাড় নাড়ালে ব্যথা বাড়ে
ব্যথা সাধারণত কয়েক সেকেন্ড থেকে কয়েক মিনিট স্থায়ী হয়, কিন্তু দিনে বহুবার হতে পারে।
মাইগ্রেন না নিউরালজিয়া—পার্থক্য কী
মাইগ্রেনের ব্যথা সাধারণত মাথার সামনে বা পাশে শুরু হয় এবং ধুকপুক প্রকৃতির।অক্সিপিটাল নিউরালজিয়ার ব্যথা শুরু হয় ঘাড়ের পেছন থেকে এবং তা তীক্ষ্ণ, বিদ্যুতের মতো।
স্ক্যাল্পে স্পর্শে ব্যথা এবং নির্দিষ্ট পয়েন্টে চাপ দিলে ব্যথা বেড়ে যাওয়া অক্সিপিটাল নিউরালজিয়ার ক্ষেত্রে বেশি দেখা যায়।
গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, মাইগ্রেনের ওষুধ এই সমস্যায় সাধারণত কার্যকর হয় না।
কেন হয় এই সমস্যা
সবচেয়ে সাধারণ কারণগুলি হল
দীর্ঘক্ষণ কম্পিউটার বা মোবাইল ব্যবহারে ঘাড়ে চাপঘাড় বা মাথায় আঘাতসার্ভাইক্যাল স্পাইনের সমস্যাঘাড়ের পেশীর দীর্ঘস্থায়ী টানডায়াবেটিস বা অন্যান্য স্নায়ুজনিত অসুখবিরল ক্ষেত্রে টিউমার বা ভাস্কুলার সমস্যা
কীভাবে নির্ণয় করা হয়
সঠিক রোগ নির্ণয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ
রোগীর বিস্তারিত ইতিহাস নেওয়া হয়ঘাড় ও স্ক্যাল্প পরীক্ষা করা হয়নির্দিষ্ট স্থানে চাপ দিলে ব্যথা তৈরি হয় কিনা দেখা হয়ডায়াগনস্টিক নার্ভ ব্লক দিয়ে নিশ্চিত করা হয়প্রয়োজনে MRI বা CT স্ক্যান করা হয়
চিকিৎসা
প্রথম ধাপ: ওষুধ ও কনজারভেটিভ চিকিৎসা
হট প্যাকফিজিওথেরাপিপোস্টার ঠিক করানার্ভ পেইনের ওষুধম্যাসাজ
অনেক রোগী এই ধাপেই ভালো হয়ে যান।
দ্বিতীয় ধাপ: ইন্টারভেনশনাল চিকিৎসা
Occipital Nerve Block
Pulsed Radiofrequency
Botulinum toxin ইনজেকশন
Occipital nerve stimulation (জটিল ক্ষেত্রে)
এই পদ্ধতিগুলি মিনিমালি ইনভেসিভ এবং বেশ কার্যকর।
সার্জারি
খুবই বিরল ক্ষেত্রে প্রয়োজন হয়, যখন অন্য চিকিৎসায় কাজ হয় না।
কীভাবে প্রতিরোধ করবেন
স্ক্রিন চোখের সমতলে রাখুনপ্রতি ৩০–৪৫ মিনিটে বিরতি নিনসঠিক বালিশ ব্যবহার করুনস্ট্রেস কমাননিয়মিত ঘাড়ের ব্যায়াম করুন
কখন দ্রুত ডাক্তারের কাছে যাবেন
হঠাৎ খুব তীব্র মাথাব্যথা হলেজ্বর, বমি বা ঘাড় শক্ত হয়ে গেলেকথা বলতে বা নড়াচড়ায় সমস্যা হলেআঘাতের পর ব্যথা শুরু হলে
শেষ কথা
মাথার পেছনের এই ধরনের তীব্র ব্যথাকে অবহেলা করা উচিত নয়। এটি সাধারণ মাথাব্যথা নয়, বরং একটি নির্দিষ্ট স্নায়ুজনিত সমস্যা।
সঠিক রোগ নির্ণয় এবং উপযুক্ত চিকিৎসা হলে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই রোগী স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যেতে পারেন।
Disclaimer: এই লেখা শুধুমাত্র সচেতনতার উদ্দেশ্যে। ব্যক্তিগত চিকিৎসার জন্য অবশ্যই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।





Comments