কোমরের ব্যথা পা পর্যন্ত নামছে? সায়াটিকার চিকিৎসায় অপারেশন ছাড়াই কি আরাম সম্ভব?
- Dr Debjyoti Dutta

- 7 days ago
- 3 min read

আজকাল অনেক মানুষই এমন এক সমস্যায় ভুগছেন, যেখানে কোমর থেকে ব্যথা শুরু হয়ে ধীরে ধীরে নিতম্ব, উরু হয়ে পা পর্যন্ত নেমে যায়। অনেকেই একে সাধারণ কোমর ব্যথা ভেবে অবহেলা করেন। কিন্তু চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হয় সায়াটিকা। সময়মতো সঠিক সায়াটিকার চিকিৎসা না হলে এই সমস্যা ধীরে ধীরে জটিল হয়ে উঠতে পারে।
কোমরের মেরুদণ্ড থেকে যে বড় স্নায়ুটি পায়ের দিকে নেমে গেছে, সেটিই সায়াটিক নার্ভ। এই স্নায়ুর উপর চাপ পড়লেই শুরু হয় সায়াটিকার ব্যথা। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এই চাপের কারণ হয় স্লিপ ডিস্ক, হাড়ের ক্ষয়, বা মেরুদণ্ডের সংকীর্ণতা।

সায়াটিকার চিকিৎসা কেন অবহেলা করা ঠিক নয়
অনেক রোগীই ব্যথা সহ্য করে চলেন বা বারবার ব্যথার ওষুধ খেয়ে সাময়িক আরাম পাওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু দীর্ঘদিন এভাবে চললে স্নায়ুর ক্ষতি বাড়তে পারে। সঠিক সময়ে সায়াটিকার চিকিৎসা না হলে পায়ে ঝিনঝিনি, জ্বালা, দুর্বলতা এমনকি হাঁটাচলায় সমস্যাও দেখা দিতে পারে।
সায়াটিকার ব্যথা শুধু শরীরের নয়, মানসিক দিক থেকেও মানুষকে ক্লান্ত করে তোলে। রাতে ঘুম না হওয়া, দীর্ঘক্ষণ বসে থাকতে না পারা বা স্বাভাবিক কাজ করতে না পারা—সব মিলিয়ে জীবনযাত্রার মান অনেকটাই নেমে যায়।

সায়াটিকার চিকিৎসায় কি অপারেশনই একমাত্র রাস্তা?
এখনও অনেকের মনে এই ধারণা রয়েছে যে সায়াটিকা মানেই অপারেশন। বাস্তবে কিন্তু তা নয়। আধুনিক পেইন ম্যানেজমেন্টে সায়াটিকার চিকিৎসা এখন অনেক ক্ষেত্রেই অপারেশন ছাড়াই সম্ভব।
সব রোগীরই যে সার্জারি দরকার, তা নয়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে যদি স্নায়ুর উপর চাপ খুব বেশি না হয় বা সঠিক সময়ে চিকিৎসা শুরু করা যায়, তাহলে আধুনিক ইনজেকশন পদ্ধতি ও ফিজিওথেরাপির মাধ্যমেই দীর্ঘদিন আরাম পাওয়া সম্ভব।

সায়াটিকার চিকিৎসায় ট্রান্সফোরামিনাল এপিডিউরাল স্টেরয়েড ইনজেকশন কীভাবে সাহায্য করে
আজকের দিনে সায়াটিকার চিকিৎসা করতে যে পদ্ধতিটি খুবই কার্যকর প্রমাণিত হয়েছে, সেটি হল ট্রান্সফোরামিনাল এপিডিউরাল স্টেরয়েড ইনজেকশন। সহজ করে বললে, এই ইনজেকশনটি ঠিক সেই জায়গায় দেওয়া হয়, যেখান থেকে স্নায়ুটি বেরিয়ে পায়ের দিকে যাচ্ছে এবং যেখানে মূল সমস্যাটি তৈরি হয়েছে।
এই পদ্ধতিতে স্টেরয়েড ও লোকাল অ্যানাস্থেটিক একসঙ্গে ব্যবহার করা হয়। স্টেরয়েড স্নায়ুর চারপাশের ফোলা ও প্রদাহ কমায়, আর লোকাল অ্যানাস্থেটিক দ্রুত ব্যথা কমাতে সাহায্য করে। ফলে সায়াটিকার চিকিৎসা সরাসরি সমস্যার গোড়ায় কাজ করে।

এই আধুনিক সায়াটিকার চিকিৎসা কতটা নিরাপদ?
সঠিক হাতে এবং ইমেজ গাইডেন্সে করলে এই সায়াটিকার চিকিৎসা পদ্ধতিটি অত্যন্ত নিরাপদ। এক্স-রে বা ফ্লুরোস্কোপির সাহায্যে ইনজেকশন দেওয়া হয় বলে ওষুধ ঠিক জায়গায় পৌঁছায়। পুরো প্রক্রিয়াটি সাধারণত ১৫–২০ মিনিটের মধ্যে শেষ হয়ে যায় এবং রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি থাকতে হয় না।
বেশিরভাগ রোগীই ইনজেকশনের পর সামান্য অস্বস্তি ছাড়া বড় কোনও সমস্যা অনুভব করেন না।

সায়াটিকার চিকিৎসার পর কবে থেকে আরাম পাওয়া যায়?
অনেক ক্ষেত্রেই ইনজেকশনের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই কিছুটা আরাম পাওয়া যায়। তবে স্টেরয়েডের পুরো প্রভাব সাধারণত ২–৩ দিনের মধ্যে শুরু হয় এবং এক থেকে দুই সপ্তাহের মধ্যে ব্যথা অনেকটাই কমে যায়।
এই সায়াটিকার চিকিৎসা অনেক রোগীর ক্ষেত্রে কয়েক মাস থেকে শুরু করে এক বছরেরও বেশি সময় আরাম দিতে পারে। তবে রোগীর অবস্থা, কাজের ধরন ও জীবনযাত্রার ওপর ফলাফল নির্ভর করে।

সায়াটিকার চিকিৎসার পর কী কী সাবধানতা মানতে হয়
ইনজেকশনের পর এক–দু’দিন ভারী কাজ এড়িয়ে চলা ভালো। চিকিৎসকের পরামর্শ মতো ওষুধ খাওয়া ও ফিজিওথেরাপি চালিয়ে যাওয়া খুবই জরুরি। ঠিকমতো রিহ্যাবিলিটেশন না করলে সায়াটিকার চিকিৎসা সম্পূর্ণ সুফল দিতে পারে না।
Samobathi Pain Clinic-এ সায়াটিকার চিকিৎসা কেন আলাদা
Samobathi Pain Clinic-এ প্রতিটি রোগীর সমস্যা আলাদা করে বিচার করে সায়াটিকার চিকিৎসা পরিকল্পনা করা হয়। আধুনিক ইমেজ-গাইডেড পদ্ধতি, অভিজ্ঞ পেইন স্পেশালিস্ট এবং রোগী-কেন্দ্রিক যত্ন—এই তিনের সমন্বয়েই এখানে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
আমাদের লক্ষ্য শুধু ব্যথা কমানো নয়, বরং রোগীকে আবার স্বাভাবিক ও কর্মক্ষম জীবনে ফিরিয়ে আনা।
শেষ কথা
কোমরের ব্যথা যদি পা পর্যন্ত নামতে থাকে, তাহলে সেটিকে হালকা করে দেখার সুযোগ নেই। সময়মতো সঠিক সায়াটিকার চিকিৎসা নিলে বড় অপারেশন এড়ানো সম্ভব হতে পারে।
ব্যথা দীর্ঘদিনের হলে বা হঠাৎ বেড়ে গেলে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।Samobathi Pain Clinic আপনার পাশে আছে, ব্যথামুক্ত জীবনের পথে।





Comments