top of page

ঘাড় থেকেই কি শুরু হচ্ছে আপনার মাথাব্যথা? শুধু মাইগ্রেন ভেবে ভুল করছেন না তো

লেখক: ডা. দেবজ্যোতি দত্ত

Pain Physician, Samobathi Pain Clinic


Woman clutching her neck with glowing spine pain graphic beside Samobathi Pain Clinic educational article  about neck pain causes and treatment.

ঘাড় থেকেই কি শুরু হচ্ছে আপনার মাথাব্যথা? কারণ, লক্ষণ ও চিকিৎসা

অনেকেরই অভিযোগ—"ঘাড়ের গোড়া থেকে ব্যথা শুরু হয়, তারপর ধীরে ধীরে মাথার পেছন, কপাল বা চোখের পেছনে ছড়িয়ে পড়ে।" বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এই ধরনের ব্যথাকে মাইগ্রেন বা সাধারণ মাথাব্যথা বলে ধরে নেওয়া হয়। কিন্তু সব সময় তা সত্যি নয়।

অনেক ক্ষেত্রে এই মাথাব্যথার আসল উৎস থাকে ঘাড়। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হয় সার্ভিকোজেনিক হেডেক (Cervicogenic Headache)

সঠিক রোগ নির্ণয় হলে এই ধরনের মাথাব্যথার কার্যকর চিকিৎসা সম্ভব। তাই ব্যথার উৎস জানা অত্যন্ত জরুরি।


কেন ঘাড়ের সমস্যা থেকে মাথাব্যথা হয়?

মাথা ও ঘাড়ের স্নায়ুগুলির মধ্যে ঘনিষ্ঠ সংযোগ রয়েছে। ঘাড়ের ওপরের অংশের জয়েন্ট, পেশী বা স্নায়ু থেকে উৎপন্ন ব্যথার সংকেত মস্তিষ্ক এমনভাবে গ্রহণ করে যে রোগীর মনে হয় ব্যথাটি মাথা থেকেই হচ্ছে।

তাই অনেকেই বলেন—

  • ব্যথা ঘাড়ের গোড়া থেকে শুরু হয়।

  • মাথার পেছন দিয়ে উপরে উঠে যায়।

  • কখনও কপাল বা চোখের পেছন পর্যন্ত পৌঁছে যায়।

  • দীর্ঘক্ষণ কম্পিউটারে কাজ করলে ব্যথা বাড়ে।

  • ঘাড় ঘোরালে বা উপরে তাকালে মাথাব্যথা বেড়ে যায়।

এই ধরনের লক্ষণ থাকলে শুধুমাত্র মাইগ্রেন ভেবে ওষুধ খেয়ে যাওয়া ঠিক নয়।


সার্ভিকোজেনিক হেডেক কী?

এটি এমন এক ধরনের মাথাব্যথা যার উৎস আসলে ঘাড়।

ঘাড়ের বিভিন্ন গঠন যেমন—

  • উপরের সার্ভাইক্যাল ফেসেট জয়েন্ট

  • ডিস্ক

  • লিগামেন্ট

  • ঘাড়ের পেশী

  • অক্সিপিটাল নার্ভ

—এগুলির সমস্যা থেকে মাথাব্যথা তৈরি হতে পারে।

অর্থাৎ মাথায় ব্যথা হলেও সমস্যার মূল কারণ থাকে ঘাড়ে।


কোন কোন কারণে ঘাড় থেকে মাথাব্যথা হতে পারে?


দীর্ঘক্ষণ মোবাইল বা কম্পিউটার ব্যবহার

ঘাড় নিচু করে দীর্ঘ সময় কাজ করলে পেশীর ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে।


ভুল ভঙ্গিতে বসা

অফিসে বা বাড়িতে ভুল অঙ্গবিন্যাসে দীর্ঘক্ষণ বসে থাকাও একটি বড় কারণ।


সার্ভাইক্যাল স্পন্ডাইলোসিস

বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ঘাড়ের জয়েন্টের ক্ষয় হলে ব্যথা মাথায় ছড়াতে পারে।


ঘাড়ের পেশীর দীর্ঘদিনের টান

চাপ, মানসিক উদ্বেগ বা অতিরিক্ত কাজের জন্য পেশী শক্ত হয়ে গেলে মাথাব্যথা হতে পারে।


অক্সিপিটাল নিউরালজিয়া

ঘাড় থেকে মাথায় যাওয়া স্নায়ুতে চাপ বা প্রদাহ হলে বিদ্যুতের ঝাঁকুনির মতো ব্যথা অনুভূত হতে পারে।


কীভাবে বুঝবেন মাথাব্যথার উৎস ঘাড়?

নিচের লক্ষণগুলি থাকলে সার্ভিকোজেনিক হেডেকের সম্ভাবনা থাকে—

  • ব্যথা ঘাড় থেকে শুরু হয়।

  • সাধারণত এক পাশেই বেশি হয়।

  • ঘাড় নাড়ালে ব্যথা বাড়ে।

  • দীর্ঘক্ষণ বসে কাজ করলে সমস্যা বাড়ে।

  • ঘাড় শক্ত লাগে।

  • মাথার পেছনে চাপ দিলে ব্যথা বাড়ে।

  • মাথার সঙ্গে ঘাড়েও অস্বস্তি থাকে।


মাইগ্রেন আর ঘাড়জনিত মাথাব্যথার পার্থক্য


মাইগ্রেনে সাধারণত—

  • দপ দপ (Throbbing) ধরনের ব্যথা হয়।

  • আলো বা শব্দে অস্বস্তি বাড়ে।

  • বমি বমি ভাব হতে পারে।

  • শারীরিক পরিশ্রমে ব্যথা বাড়ে।


অন্যদিকে ঘাড়জনিত মাথাব্যথায়—

  • ব্যথা ঘাড় থেকে শুরু হয়।

  • ঘাড় ঘোরালে বাড়ে।

  • ঘাড় শক্ত লাগে।

  • মাইগ্রেনের ওষুধে অনেক সময় তেমন উপকার হয় না।


কীভাবে রোগ নির্ণয় করা হয়?

শুধু এমআরআই করলেই সব সময় রোগ ধরা পড়ে না।

সঠিক রোগ নির্ণয়ের জন্য চিকিৎসক সাধারণত—

  • রোগের বিস্তারিত History নেন

  • ঘাড় পরীক্ষা করেন

  • ঘাড়ের Movement মূল্যায়ন করেন

  • ব্যথার নির্দিষ্ট স্থান খুঁজে দেখেন

  • প্রয়োজনে এক্স-রে, সিটি স্ক্যান বা এমআরআই করতে বলেন

  • কিছু ক্ষেত্রে ডায়াগনস্টিক নার্ভ ব্লক বা জয়েন্ট ব্লকের সাহায্য নেন


চিকিৎসা কী?

চিকিৎসা নির্ভর করে সমস্যার কারণের ওপর।


কনজারভেটিভ চিকিৎসা

অনেক রোগী ভালো থাকেন—

  • সঠিক ভঙ্গিতে বসা

  • ফিজিওথেরাপি

  • ঘাড়ের ব্যায়াম

  • কর্মস্থলের Ergonomic পরিবর্তন

  • প্রয়োজনীয় ওষুধ

  • হট ফোমেন্টেশন


ইন্টারভেনশনাল পেইন চিকিৎসা


যদি দীর্ঘদিনের চিকিৎসাতেও উপকার না হয়, তবে কিছু রোগীর ক্ষেত্রে ইমেজ-গাইডেড মিনিমালি ইনভেসিভ পদ্ধতি কার্যকর হতে পারে।

যেমন—


সঠিক রোগী নির্বাচন এবং অভিজ্ঞ Pain Physician-এর মূল্যায়নের পরেই এই চিকিৎসাগুলি করা হয়।


কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন?

নিচের কোনও লক্ষণ থাকলে দেরি না করে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন—

  • মাথাব্যথা বারবার ঘাড় থেকেই শুরু হয়।

  • ঘাড় নাড়ালে ব্যথা বাড়ে।

  • ঘাড়ের সঙ্গে মাথাব্যথাও থাকে।

  • সাধারণ ওষুধে উপকার হচ্ছে না।

  • ব্যথার জন্য কাজ বা ঘুম ব্যাহত হচ্ছে।


কখন জরুরি চিকিৎসা প্রয়োজন?

যদি মাথাব্যথার সঙ্গে থাকে—

  • হঠাৎ অসহ্য ব্যথা

  • জ্বর ও ঘাড় শক্ত হয়ে যাওয়া

  • হাত বা পা অবশ হয়ে যাওয়া

  • কথা বলতে অসুবিধা

  • অজ্ঞান হয়ে যাওয়া

  • বারবার বমি

  • মাথায় আঘাতের পর ব্যথা

তাহলে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে যোগাযোগ করুন।


শেষ কথা

মাথাব্যথা মানেই যে সব সময় মাইগ্রেন, তা নয়। অনেক সময় সমস্যার শুরু হয় ঘাড় থেকে। তাই দীর্ঘদিন ধরে ঘাড়ের সঙ্গে মাথাব্যথা থাকলে কারণ না জেনে শুধু ব্যথার ওষুধ খাওয়া সমাধান নয়।

সঠিক রোগ নির্ণয়, জীবনযাত্রার কিছু পরিবর্তন, ফিজিওথেরাপি এবং প্রয়োজনে আধুনিক ইন্টারভেনশনাল পেইন চিকিৎসার মাধ্যমে অধিকাংশ রোগীই স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যেতে পারেন।


কিছু সাধারণ প্রশ্ন


ঘাড়ের ব্যথা কি মাথাব্যথার কারণ হতে পারে?

হ্যাঁ। ঘাড়ের জয়েন্ট, পেশী বা স্নায়ুর সমস্যা থেকে সার্ভিকোজেনিক হেডেক হতে পারে।


এই ধরনের মাথাব্যথা কি মাইগ্রেন?

সব ক্ষেত্রে নয়। অনেক সময় মাইগ্রেনের মতো মনে হলেও সমস্যার উৎস থাকে ঘাড়ে।


এমআরআই কি সব সময় দরকার?

না। চিকিৎসকের মূল্যায়নের ভিত্তিতে প্রয়োজন হলে তবেই এমআরআই বা অন্যান্য পরীক্ষা করা হয়।


ইন্টারভেনশনাল পেইন চিকিৎসা কি কার্যকর?

নির্বাচিত রোগীর ক্ষেত্রে Greater Occipital Nerve Block, Cervical Medial Branch Block বা Radiofrequency-এর মতো আধুনিক পদ্ধতিতে দীর্ঘমেয়াদি আরাম পাওয়া যেতে পারে।


ডিসক্লেমার: এই নিবন্ধটি শুধুমাত্র স্বাস্থ্য সচেতনতার উদ্দেশ্যে লেখা। এটি ব্যক্তিগত চিকিৎসার বিকল্প নয়। আপনার সমস্যার জন্য অবশ্যই নিবন্ধিত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

Comments


⚠️ Disclaimer
The information on the Samobathi Pain Clinic website and app is for pain management awareness only and not a substitute for professional medical advice. Always consult your doctor for diagnosis or treatment. In emergencies, contact your healthcare provider or local emergency services immediately.

bottom of page